ওপেক প্লাসের উত্তোলন বাড়ানোর আলোচনা

জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ১ শতাংশের বেশি

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন জুলাইয়েও বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করছে ওপেক প্লাস।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন জুলাইয়েও বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করছে ওপেক প্লাস। এ খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল পণ্যটির দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হতে পারে। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬৩ ডলার ৮৬ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম এ সময় কমেছে ৯৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ব্যারেলপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৬০ ডলার ৬০ সেন্টে।

পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। ব্লুমবার্গ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংগঠনটি আগামী ১ জুনের বৈঠকে জুলাইয়ে আরো একটি উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় দৈনিক গড়ে ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়াতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

ওপেক প্লাস ধাপে ধাপে তাদের পূর্বঘোষিত উৎপাদন হ্রাসের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল, নভেম্বরের মধ্যে ওপেক প্লাস জোটভুক্ত দেশগুলোর দৈনিক জ্বালানি তেল সরবরাহ বৃদ্ধির পরিমাণ ২২ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট গত বুধবার এক নোটে জানান, জুলাই থেকে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেল উত্তোলন ক্রমেই বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে এ সময় সবচেয়ে বেশি উত্তোলন বাড়াবে সৌদি আরব।

এদিকে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) বুধবার প্রকাশিত তথ্যে জানায়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুদের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় বেড়েছে। কারণ সে সময় পণ্যটির আমদানির পরিমাণ ছিল গত ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে জ্বালানি তেলের মজুদ ১৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪৪ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

এলএসইজি অয়েল রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এমরিল জামিল বলেন, ‘এ মজুদ বৃদ্ধির তথ্য ডব্লিউটিআইয়ের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করবে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি তেল রফতানি আরো বাড়বে।’

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানায়, জ্বালানি তেলের দাম ২০২৫ সালে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামতে পারে। ২০২৬ সালে দাম আরো ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের গড় দাম ২০২৫ সালে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ ডলার ও ২০২৬ সালে ৬০ ডলার হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও